দেশব্যাপী উন্নয়নের ঢেউ শুরু হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
বগুড়ার উন্নয়ন শুধু এ অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বগুড়া শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত ‘শাহ ফতেহ আলী সেতু’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশব্যাপী উন্নয়নের ঢেউ শুরু হয়েছে। অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে যেখানে যে উন্নয়ন প্রয়োজন তা আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন করছে সরকার। বগুড়া দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি উৎপাদন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা এখানে ব্যাপক। এ কারণে বগুড়ার উন্নয়নকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শিল্প ও অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বগুড়াকে আরো এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বগুড়াকে কেন্দ্র করে পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি উন্নয়ন জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই জোনের মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন তদারকি, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া মানুষের বিনোদন ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ ও রেল জংশন স্থাপনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে রবিউল আলম বলেন, বগুড়ায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ওভারপাস নির্মাণ, একাধিক বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার যোগাযোগব্যবস্থা আরো সহজ ও আধুনিক হবে।
করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেতুটিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকান বসানো ঠেকাতে আলাদা লেন সুরক্ষিত করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এলাকাটি পর্যটনকেন্দ্রের মতো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি করতোয়া নদীর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো উদ্যোগ নিয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক খাতে জরাজীর্ণতা, অব্যবস্থাপনা ও দেখভালের ঘাটতি ছিল, এ বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বছরের শেষে হিসাব করলে দেখা যাবে, যেকোনো সময়ের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
তিনি আরো বলেন, বগুড়ার উন্নয়ন শুধু বগুড়াবাসীর জন্য নয়, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শিল্প, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বগুড়াকে আরো এগিয়ে নেওয়া হলে এর সুফল পুরো দেশ পাবে। ভবিষ্যতে বগুড়ায় আরো উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।
