দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের লজ্জার হার


ডারউইনের বাংলাদেশ আর ম্যাকাইয়ের বাংলাদেশ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়া সেই দলটিই ম্যাকাইয়ে ফিরিয়ে আনল ২৩ বছর আগের দুঃসহ স্মৃতি। প্রথম টেস্টে চার দিনজুড়ে ব্যাট-বলে দাপট দেখানো বাংলাদেশ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় দুই দিন শেষ হওয়ার আগেই হেরে গেল ইনিংস ও ৫১ রানে।

এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নও থেমে গেল ম্যাকাইয়ের হতাশাজনক হারে।

দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। একে একে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম। ৮২ রানেই ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস হার তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত থাকলেও দলকে রক্ষা করতে পারেননি।

মুশফিকের সঙ্গে শান্তর ২৭ রানের জুটি ভাঙেন নাথান লায়ন। এরপর মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়ে টানা তিন ইনিংসে ডাক মারেন লিটন দাস। প্যাট কামিন্স এরপর টানা দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। তার বলে মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ধরা পড়েন। পরের উইকেটে হাসান মাহমুদ ২ রানে শর্ট লেগে ট্র্যাভিস হেডের হাতে ক্যাচ দেন।

তাইজুল ইসলাম এরপর মুশফিকের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৪ বল খেলে ৭ রান করার পর স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ম্যাচে নিজের দশম উইকেট পূর্ণ করেন অজি পেসার।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৯ রান ছিল। শান্ত ২৩ ও মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

শুরু থেকেই স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। সাদমান ইসলামকে ১ রানে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানানোর পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। মাত্র ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলের রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক শান্ত। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। তবে তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের ক্যাচ হন তিনি। ৩৪ বলে ৯ রান করেন এই ওপেনার।

ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ এরপর টানা দুই ইনিংসে ডাক মারেন। ম্যাকাইয়ে রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি তিনি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শরিফুল ইসলাম। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল।

৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ হলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে আঘাত করে এবং রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চারসহ ৬৭ রান করে ফেরেন গ্রিন।

এরপর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড আরও বাড়ান। লায়ন ৬২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম।



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *