ভারি বর্ষণে দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল ফের প্লাবিত, লংগদু সড়ক বন্ধ


কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল ফের প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এতে লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কয়েক দফায় চলা বৃষ্টিতে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা।

রাতভর কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণে বাড়তে থাকে মাইনী নদীসহ পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি। পরে মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন নিচু এলাকা ডুবে যায়। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘরেও। তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ফসলের মাঠ।

লংগদুর সাথে সারাদেশের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা বিকল্প উপায়ে দেশীয় বোটে করে চলাচল করছে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লংগদুগামী শান্তি পরিবহনের নৈশকোচগুলো মেরুংয়ের হেড কোয়াটার এলাকায় আটকে আছে। যাত্রীরা দেশি বোটে সড়কের ডুবে যাওয়া অংশটি পারাপার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিছি। এখন এখানে এসে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাথে থাকা মালামাল নিয়ে এখন দেশী বোটে যেতে হচ্ছে। বাসের সব যাত্রীর একই পরিণতি।

মেরুংয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রোকন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একবার ডুবুছে। এই শনিবারে আরেক দফায় ডুবল। গত দুই মাসে তিন দফায় মেরুং এলাকায় পানি ডুবেছে। আমাদের ঘর বাড়ির পাশাপাশি ফসলের জমিও ডুবে গেছে।

মধ্যবোয়ালখালী এলাকার কৃষক সুবিমল চাকমা বলেন,গত সপ্তাহের পর শনিবার ভোর থেকে আবারো আমার আমন ক্ষেত ডুবেছে। গত সোমবার মাত্র চারা রোপণের কাজ শেষ করছি। কৃষক কীভাবে বাঁচবে? জুলাই মাসে একবার, এই মাসে দুইবার ডুবেছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ বলেন, পাবলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সহযোগিতায় নতুন বরাদ্দ উপজেলায় পাওয়া যাবে। এখনো পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি, শীগ্রই প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *