রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক
টানা প্রায় ৪৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এসব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।
তবে এখনও গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চলাচলকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধের সমাধান হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১২টার পর গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই জেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করেন।
পরিবহন মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সে সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইনের চারটি ট্রিপ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষ তখন ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধীরে ধীরে ট্রিপের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। কোনো কোনো দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ২৮টি পর্যন্ত ট্রিপ চালানো হয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে গোল্ডেন লাইন নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলাচলে তাদের আপত্তি নেই। তবে এর বেশি ট্রিপ চলতে দেওয়া হবে না।
সুকুমার ভৌমিক আরও বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনার পর ফরিদপুরে রাজবাড়ীর একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারকে মারধর এবং ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসন বাস চলাচলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় তারা বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে পরবর্তী সময়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।
রুবেলুর রহমান/কেজে/এএসএম
