সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় প্রধান আসামির প্রাণদণ্ড
সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন বলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুল আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩০ বছর বয়সী মো. জাকির হোসেন সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা তোতা মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ফাহিমা চলতি বছরের ৬ মে নিখোঁজ হয়। দুদিন পর ৮ মে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়, জাকির প্রথমে ফাহিমার মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ডোবার পাশেই ফেলে রেখে যান। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির প্রথমে পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ১২ মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানিয়েছেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি-না, তা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল।
পিপি বদরুল আহমদ চৌধুরী বলেন, তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় হয়েছে। রায়ে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। আর অভিযোগের প্রমাণ না মেলায় জাকিরের দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
