৪ ধরনের জ্ঞান শিক্ষা করা সবার জন্য ফরজ
তৃতীয় প্রকার
পাঁচটি হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়ের জ্ঞান, যা পূর্ববর্তী রাসুলগণের শরিয়ত ও আসমানি কিতাবসমূহেও নিষিদ্ধ ছিল। আল্লাহ–তাআলা কোরআনের মাধ্যমে সেসব বিষয় আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজসমূহ—প্রকাশ্য হোক বা গোপন এবং সর্বপ্রকার পাপ, অন্যায়ভাবে (কারও প্রতি) সীমালঙ্ঘন, আল্লাহ যে সম্পর্কে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, এমন জিনিসকে আল্লাহর শরিক সাব্যস্তকরণ এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলা, যে সম্পর্কে তোমাদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩৩)
এই বিষয়গুলো সর্বাবস্থায় হারাম। পূর্ববর্তী সব রাসুলের শরিয়তেই এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই সম্পূর্ণ হারাম ছিল। এগুলো কখনোই কারও জন্য হালাল করা হয়নি।
এ জন্যই আয়াতে সীমাবদ্ধতা বোঝাতে ‘ইননামা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অপর দিকে অন্য কিছু বিষয় আছে, যেগুলো একসময় হারাম হলেও অন্য সময়ে হালাল করা হয়। (যেমন চরম বিপৎকালে মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশত খাওয়া)।
তাই সেগুলো চিরন্তন হারামের তালিকা অন্তর্ভুক্ত নয়।
চতুর্থ প্রকার
মানুষে-মানুষে যে সামাজিক মেলামেশা ও লেনদেন (মুআ’মালাত-মুআশারাত) সংগঠিত হয়, সেগুলোর বিধান–সম্পর্কিত জ্ঞান। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আবশ্যকতার মাত্রা মানুষের অবস্থা ও মর্যাদার ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
যেমন প্রজার সঙ্গে শাসকের দায়িত্ব আর পরিবারের ও প্রতিবেশীর সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের দায়িত্ব এক নয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় নিয়োজিত, তার ওপর বেচাকেনার বিধান–সংক্রান্ত জ্ঞান শেখা যতটুকু ফরজ, যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাবেচা করে না, তার ওপর ততটুকু ফরজ নয়।
তারপর তিনি বলেন, ‘এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আঁটানো সম্ভব নয়। কারণ, আবশ্যকীয় জ্ঞান অর্জনের কারণগুলো মানুষের অবস্থাভেদে আলাদা হয়ে থাকে। এর মূল বিষয়ের ৩টি মূলনীতি রয়েছে:
১. বিশ্বাসগত জ্ঞান; ২. কর্মগত জ্ঞান এবং ৩. বর্জনগত জ্ঞান।
আকিদার ক্ষেত্রে আবশ্যক জ্ঞান হলো, তা যেন বাস্তব সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়। কর্মের ক্ষেত্রে আবশ্যক জ্ঞান হলো, বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ যাবতীয় ইচ্ছাকৃত আমল বা কাজকে যেন শরিয়তের আদেশ ও হালাল সীমা অতিক্রম না করে।
আর বর্জনের ক্ষেত্রে আবশ্যক জ্ঞান হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পাপ থেকে বিরত থাকা এবং তাতে স্থিরতা অর্জন করা। (ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়াহ, মিফতাহু দারিস সাআ’দাহ ওয়া মানশুরি বিলায়াতুল ইলমি ওয়াল ইরাদাহ, ১/১৬১-১৬২, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৯৮)
মাহমুদ হাসান ফাহিম : শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, টঙ্গী
