বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতেই হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান


দেশে ব্যবসা করা বহুজাতিক ও করপোরেট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহ দেওয়ার কথা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে না এলে তাদের ‘বাধ্য করা হবে’।

তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও রয়েছে। তাদের বাধ্য করা হবে। বাজারে তাদের আসতেই হবে।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) ঢাকার অদুরে নারায়ণগঞ্জের সুবর্ণগ্রামে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম-সিএমজেএফের সদস্যদের এক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির প্রধান।

মাসুদ খান বলেন, বাংলাদেশে অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আছে, করপোরেট কোম্পানি আছে। ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ বা ৫০০ কোটি টাকার আয় আছে, এমন কোম্পানিকে আমরা প্রথমে আনবো। তাদের যাচাই করব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে ফলাফল (তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু) দেখতে পারবেন।

আগামী ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি বড় ও ‘ফ্ল্যাগশিপ’ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, আপনারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসেন। তবে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে না এলে সেটার অস্ত্রও আমাদের হাতে আছে। জনস্বার্থে বর্তমান আইন অনুযায়ী তাদের আসতে বাধ্য করা যাবে, আমরা এই আইনের আলোকে নতুন সংজ্ঞা দেব।

তার ভাষ্য, সিকিউরিটিজ আইনের ২৮ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘জনস্বার্থে’ নির্দিষ্ট কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’ এর সংজ্ঞাও আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, এজন্য পেনশন ফান্ডের বিনিয়োগ উদার করার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ না থাকলে পুঁজিবাজার এখনকার মতো যে তিমিরে আছে, সেই তিমিরেই থেকে যাবে।”

করপোরেট কোম্পানি পুঁজিবাজারে এলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শেয়ার ও মালিকানা হস্তান্তর সহজ হয়, সেই আইনি সুবিধা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন,“তালিকাভুক্ত হলে একটি কোম্পানি করপোরেট ইমেজ পায়, তার ভ্যালু বাড়ে। তার বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়। এই বাজারমূল্য কাজে লাগিয়ে কোম্পানি অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা একীভূত করতে পারে। পরের প্রজন্ম সহজে মালিকানা নিতে পারে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি কোনো অংশীদার ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সহজে বের হওয়ার সুযোগ পান।

মাসুদ খান বলেন, অনেক বেসরকারি কোম্পানিতে মালিকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং ব্যবসা খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হচ্ছে অহরহ। তালিকাভুক্ত হলে যেসব অংশীদার ব্যবসায় থাকতে চান না, তাদের জন্য শেয়ার বিক্রি করে বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।”

আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, শুধু আর্থিক বিবরণীর হিসাব ঠিক আছে কি না, তা দেখলেই হবে না; কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুদপণ্য, পাওনা ও সরবরাহকারীর তথ্য বাস্তবে সঠিক কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

এ জন্য আইপিও আবেদনকারী কোম্পানির সম্পদ ও আর্থিক তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করে অডিটরদের প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জের আইপিও যাচাই–প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে, বলেন নিয়ন্ত্রয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *