পুরোনো শেয়ারধারীদের ব্যাংকে ফেরার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ


সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে আবারও সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত বিধান বাতিলের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পর্যালোচনা করে এ সুপারিশ করা হয়। বিলটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটির সদস্য ও জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন জানান, বৈঠকের এজেন্ডায় ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাব নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ধারাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবেও ধারাটি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তাদের জানা আছে।

তিনি বলেন, সংশোধনী বিলটি আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হলে পাস হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। ধারাটি বাতিলের বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন।

বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারকে এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ পুরোপুরি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দেশে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশের একটি ধারা বাতিল করে পুরোনো ও বিতর্কিত শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে ব্যাংকে ফেরার সুযোগ রাখা হয়। আইনটি পাসের সময় ওই ধারা যুক্ত করা নিয়ে বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছিল। পরে সংসদ ও সংসদের বাইরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকেও ধারাটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

শনিবার কমিটির বৈঠকে বিলটি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা শেষে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং কমিটির সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।



সাজু/নিএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *