এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা
৪.
আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেয়েরা মাঝেমধ্যেই ইভটিজিংসহ বিভিন্নভাবে ছেলেদের দ্বারা নিপীড়িত/ নির্যাতিত হয়। সব ছেলেরাই যে এসবে জড়িত, এমন নয়। আবার সব মেয়েরাই যে নিপীড়িত/নির্যাতিত হয়, এমন নয়। তবে কোনো মেয়ের সঙ্গে যদি কোথাও এমন ঘটনা ঘটে আর যদি এটা প্রচারিত হয়, তবে সব মেয়েদের মধ্যেই একধরনের জেদ কাজ করে। এই জেদও তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বা এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা শক্তি বা টনিক হিসেবে কাজ করে।
যা–ই হোক, বিভিন্ন কারণেই মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে, এটাই বাস্তবতা। এই অর্জনকে অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি ছেলেরাও যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছেলেদের সমানভাবে প্রতিযোগিতায় রাখার জন্য আমার সুপারিশগুলো নিম্নে তুলে ধরছি—
১. ভালো ফলাফলের জন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনামূলক প্রকল্প নেওয়া দরকার, যেগুলো আমাদের ছেলেদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে।
২. সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের ছেলেদের পড়াশোনার ব্যাপারে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। ছেলেদের পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের তাদের যৌক্তিক চাহিদাগুলো যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে পূরণ করতে হবে।
৩. মুঠোফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে মুঠোফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এর ভালো খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ছেলেদের সঠিক ধারণা দিতে হবে। অকারণে মুঠোফোন ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে সময় নষ্ট না করে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এটা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে নয়, মেয়েদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৪. পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এগুলোয় অতিরিক্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। মেয়েদের প্রতি ছেলেদের যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা গড়ে না উঠে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মেয়েদেরও যে ছেলেদের মতো পড়াশোনাসহ সব ধরনের অধিকার আছে, এ বিষয়টি সম্পর্কে ছেলেদের পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তাহলেই ছেলেরা ইভটিজিংসহ সব ধরনের নেতিবাচক কার্যকলাপ পরিহার করতে পারবে।
