উদীচীর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ঢাকা মহানগর উদীচীর সম্মেলনসহ সংগঠনটির অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার সহকারী জেলা জজ আদালত আবেদনটির ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মাহমুদ সেলিম ও অমিত রঞ্জন দে। আবেদনে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপনকে বিবাদী করা হয়।
এর মধ্যে উদীচী ঢাকা মহানগরের চতুর্দশ সম্মেলনের জন্য গত ১০ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই সম্মেলন আয়োজনসহ সংগঠনটির অন্যান্য কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনে নতুন করে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন বাদীপক্ষ।
প্রাথমিক শুনানির পর আদালত বিবাদীদের কাছে কারণ জানতে চান- কেন উদীচীর সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরের সম্মেলনের বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর বিবাদীপক্ষের হয়ে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন আদালতে সংগঠনের গঠনতান্ত্রিক বিধিবিধান, সর্বশেষ ২৩তম জাতীয় সম্মেলনের কার্যবিবরণী এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি উপস্থাপন করেন।
এসব নথি ও যুক্তি পর্যালোচনার পর আদালত বাদীপক্ষের নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিবাদীপক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন তসলিম। এ সময় মামলার দুই বিবাদীসহ উদীচীর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন তসলিম বলেন, আদালতের আদেশের ফলে উদীচী ঢাকা মহানগরের সম্মেলনসহ সংগঠনটির স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা থাকলো না।
তিনি আরও বলেন, একটি বৈধ ও গঠনতান্ত্রিক কমিটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল, আদালতের আদেশের মধ্যদিয়ে সেই আবেদনের ভিত্তি দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের এ আদেশের পর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা মহানগর শাখার চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার পথ খুলে গেলো।
এমডিএএ/ইএ
