আপনার কম্পিউটারের কাজের সব হিস্টোরি জানাবে চ্যাটজিপিটি!
কম্পিউটারে ব্যবহারকারীর কাজের ধরন বুঝে আরও ব্যক্তিগত ও কার্যকর সহায়তা দিতে নতুন ‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’ ফিচার চালু করেছে চ্যাটজিপিটি। ম্যাকওএস ডেস্কটপ অ্যাপে চালু হওয়া এই ফিচার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে করা বিভিন্ন কাজের একটি সময়ভিত্তিক ইতিহাস তৈরি করে। তবে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকে না; ব্যবহারকারীকে নিজে থেকে এটি চালু করতে হয়।
‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’ চালু থাকলে চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স ব্যবহারকারীর আগের কাজের তথ্যের ভিত্তিতে চলমান কোনো কাজ শেষ করতে, আগের কাজের ধারাবাহিকতা বুঝতে কিংবা ভবিষ্যৎ কাজের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরির পরামর্শ দিতে পারে।
কী তথ্য সংগ্রহ করবে চ্যাটজিপিটি?
ইয়াহুটেক এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’ আগের ‘ক্রনিকল’ ফিচারের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে। ক্রনিকল যেখানে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাজের ইতিহাস তৈরি করত, নতুন ফিচারটি মূলত কিবোর্ডে চাপ দেওয়া ও মাউসের ক্লিকের মতো ইন্টারঅ্যাকশন রেকর্ড করে।
তবে এটি সরাসরি কম্পিউটারের স্ক্রিন বা অডিও রেকর্ড করে না। ব্যবহারকারী চাইলে কোন কোন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। চাইলে যে কোনো সময় ইতিহাস দেখা ও মুছেও ফেলা যাবে। এছাড়া ব্যক্তিগত বা ইনকগনিটো ব্রাউজারে থাকা অবস্থায় সংগৃহীত তথ্য ‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’তে যুক্ত হবে না।
কীভাবে কাজে আসবে
ফিচারটির অন্যতম সুবিধা হলো কোনো কাজের মাঝখানে ব্যবহারকারী বাধাগ্রস্ত হলে চ্যাটজিপিটি আগের কাজের প্রেক্ষাপট বুঝে সহযোগিতা করতে পারবে। একই ধরনের কাজের জন্য ব্যবহারকারী কোন অ্যাপ বা পদ্ধতি ব্যবহার করেন, সেটিও বুঝতে পারবে। এমনকি ব্যবহারকারীর নিয়মিত কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে নতুন ‘স্কিল’ তৈরি বা স্বয়ংক্রিয় কাজের পরামর্শ দিতে পারবে। যেমন প্রতিদিন সকালে দলের জন্য কাজের আপডেট তৈরির মতো কোনো কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে।
গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
কম্পিউটারে ব্যবহারকারীর কার্যক্রমের বিস্তারিত ধারণা তৈরি হওয়ায় গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে অফিসের কম্পিউটারে সংবেদনশীল তথ্য, আর্থিক তথ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের নথি অনুযায়ী, কম্পিউটার হিস্ট্রির কিছু ফাইল এনক্রিপ্টেড নয়। ব্যবহারকারীর ম্যাকে সাময়িকভাবে সংরক্ষিত ইন্টারঅ্যাকশন তথ্য ৪৮ ঘণ্টা পর মুছে ফেলা হয়। তবে পরে তৈরি হওয়া সাধারণ টেক্সটভিত্তিক মার্কডাউন ফাইল ব্যবহারকারী দেখতে ও পরিবর্তন করতে পারেন এবং একই ম্যাকওএস ব্যবহারকারীর অধীনে চলা অন্য প্রোগ্রামও সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারে।
এছাড়া ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ‘প্রম্পট ইনজেকশন’ বা ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই সংবেদনশীল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলোকে ইতিহাসের বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ওপেনএআই।
কীভাবে চালু করবেন
‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’ ব্যবহার করতে ম্যাকে চ্যাটজিপিটির ডেস্কটপ অ্যাপ ইনস্টল থাকতে হবে। এরপর সেটিংসে গিয়ে ‘ইন্টিগ্রেশনস’ থেকে ‘কম্পিউটার হিস্ট্রি’ নির্বাচন করে ফিচারটি চালু করতে হবে। প্রয়োজনে ‘মেমোরিজ’ চালু করতে হবে, কারণ কাজের তথ্য বিভিন্ন চ্যাট ও টাস্কে ব্যবহারের জন্য এর প্রয়োজন হয়। এরপর কোন কোন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হবে তা নির্বাচন করে ম্যাকওএসের প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে।
বর্তমানে ফিচারটি ম্যাকওএসের জন্য চালু হয়েছে। উইন্ডোজ সংস্করণও আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। ব্যবসায়িক ও এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
শাহজালাল/কেএসকে
