জহির রায়হানের জন্মদিন আজ


বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের জন্মদিন আজ বুধবার।

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

জহির রায়হান ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৫০ সালে সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু। পরবর্তী সময়ে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে।


কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এজন্য তিনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জহির রায়হান মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তার নির্মিত তথ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার রচিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে বাঙালির ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রতিফলিত হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।

জহির রায়হান রচিত ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। এটি তার জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। পরবর্তীতে উপন্যাসটি অবলম্বনে একই সিনেমাও নির্মিত হয়েছে। এরপর ১৯৬৮ সালে ‘আরেক ফাল্গুন, ১৯৬৯ সালে ‘বরফ গলা নদী’ এবং ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‘আর কতদিন’ উপন্যাস ও গল্পগুলোর মাধ্যমে জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জহির রায়হান ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। ফিরে এসে তার অগ্রজ শহীদুল্লাহ কায়সারের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ শুনে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে ভাইকে খুঁজতে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। তার ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তা আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক অজানা রহস্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *