বিপদ এলে নবীরা যেভাবে আল্লাহকে ডাকতেন


এই দোয়ায় কোনো জোরাজুরি নেই, সন্তান দিতেই হবে সেই শর্ত নেই। শুধু একটি আকুতি, ‘তুমিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী’। সন্তান না পেলেও–বা কী, তুমি তো আছ। এই আকুতির জবাবে আল্লাহ–তাআলা সন্তান হিসেবে নবী ইয়াহইয়াকে উপহার দিয়েছিলেন। আল্লাহর কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

৫. বিপদে আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ সুরা বাকারায় বলেন, ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

এখানে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দুটি পথেই আল্লাহর সাহায্য আসে—প্রথমে ধৈর্য ও এরপর সমাধানের জন্য নামাজ আদায়। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন, তাদের ছেড়ে যান না।

নবীদের দোয়াগুলো পাশাপাশি রাখলে একটা মিল চোখে পড়ে। তাঁরা কেউ দীর্ঘ আরজি করেননি। নিজের যোগ্যতা, শর্ত উল্লেখ করে আল্লাহকে সাহায্য করতে জোরজবরদস্তি করেননি। কেউ বলেননি আমি এত ভালো মানুষ, তাই আমাকে সাহায্য করো।

তাঁরা শুধু নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর প্রতি নিজেদের নির্ভরশীলতাকে স্বীকার করেছেন। নিজেকে সঁপে দিয়ে অপেক্ষা করেছেন আল্লাহর সাহায্যের।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ এলে শুকরিয়া আদায় করে—এটি তার জন্য কল্যাণকর। বিপদ এলে সবর করে—এটিও তার জন্য কল্যাণকর। এই বৈশিষ্ট্য শুধু মুমিনের জন্যই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

যদি এই মুহূর্তে আপনার জীবনে বিপদ থেকে থাকে, তবে অবিলম্বে একটা কাজ করুন। ওজু করুন। দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। এরপর হাত তুলুন। এই মুহূর্তে আপনার মনে যা আছে, সেটাই বলুন। গোছানো কথার প্রয়োজন নেই।

সরল মনে অকপটে আল্লাহর কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করুন। নিজের প্রয়োজন তুলে ধরুন। দেখবেন, আল্লাহ যেভাবে সব নবীর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, সেভাবে তিনি আপনার ডাকেও সাড়া দেবেন।

  • মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর : খণ্ডকালীন শিক্ষক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *